ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম আজকের এই টিউটোরিয়ালে ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি এই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে। আপনি যদি না জেনে থাকেন ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি তাহলে এই টিউটোরিয়াল টি আপনার জন্য। যা থেকে আপনি জানতে পারবেন ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি চলুন জেনে নেয়া যাক ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি।

আমাদের বিশ্ব, সাধারন প্রশ্ন উত্তর, নতুন বিশ্ব, অজানা তথ্য, আজকের বিশ্ব, সাধারন জ্ঞান, জেনারেল নলেজ, কুইজ, ধাঁধা, এমসিকিউ, আইকিউ, বিসিএস প্রিলিমিনারি,

ভর ও ওজন এর মধ্যে পার্থক্য কি

কোনো বস্তুতে মোট  জড়তার পরিমাপকে ঐ বস্তুর ভর বলে।  অন্যদিকে কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাই  ঐ বস্তুর ওজন। ভর একটি মৌলিক রাশি। এর মাত্রা সমীকরণ এম. অন্যদিকে ওজন একটি লব্ধ রাশি। এর মাত্রা সমীকরণ এম এল টি ২। ভর একটি স্কেলার রাশি। অন্যদিকে ওজন যেহেতু এক প্রকার বল সেহেতু ওজন একটি ভেক্টর রাশি। এর দিক পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে। যে অণু পরমাণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর ঐ বস্তুর ভর নির্ভর করে। অন্যদিকে কোনো বস্তুর ওজন যে স্থানে বস্তুটি আছে সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ জি এর মানের ওপর নির্ভর করে। বস্তুর ভর স্থানভেদে ভিন্ন হয় না। অন্যদিকে বস্তুর ওজন স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে৷ ভরের আন্তর্জাতিক একক কিলোগ্রাম। অন্যদিকে ওজনের আন্তর্জাতিক একক নিউটন। সাধারণ নিক্তি দিয়েই ভর মাপা যায়। অন্যদিকে স্প্রিং নিক্তি , তুলাযন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে ওজন মাপা হয়।

ভর

ভর কোনো বস্তুর একটি একটি অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য। পরমাণু এবং কণা পদার্থবিদ্যা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গতানুগতিকভাবে এটিকে ভৌত দেহে পদার্থের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে বিভিন্ন পরমাণু এবং বিভিন্ন প্রাথমিক কণা , তাত্ত্বিকভাবে একই পরিমাণ পদার্থের তৈরি হলেও তাদের  ভর ভিন্ন ।আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে ভরের একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে যা ধারণাগতভাবে স্বতন্ত্র, কিন্তু ভৌতভাবে সমতুল্য। ভরকে পরীক্ষামূলকভাবে বস্তুর  জড়তার পরিমাপ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে, যার অর্থ ত্বরণের প্রতিরোধ বেগের পরিবর্তন করে যখন একটি নেট বল প্রয়োগ করা হয়। বস্তুর ভর অন্যান্য বস্তুর প্রতি তার মহাকর্ষীয় আকর্ষণের শক্তিও নির্ধারণ করে।

ভরের এস আই ভিত্তি একক হলো কিলোগ্রাম বা কেজি। পদার্থবিজ্ঞানে , ভর ওজনের সমান নয়, যদিও ভারসাম্য স্কেল এ পরিচিত ভরের সাথে সরাসরি তুলনা করে ভর পরিমাপের পরিবর্তে একটি স্প্রিং স্কেল ব্যবহার করে বস্তুর ওজন পরিমাপের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কম মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে চাঁদে একটি বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় কম হবে, কিন্তু তার ভর একই থাকবে। এর কারণ হলো ওজন একটি শক্তি, অন্যদিকে ভর হল এমন একটি সম্পত্তি যা মাধ্যাকর্ষণ সহ এই বলের শক্তি নির্ধারণ করে।

ওজন

কোন বস্তুর ওপর অভিকর্ষীয় ক্ষেত্র দ্বারা প্রযুক্ত বলের মানকে ওজন বা ভর বলে। কোন বস্তুর ভর এম. এবং পৃথিবীর কোন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ জি. হলে ঐ স্থানে বস্তুর ওজন হবে, ডব্লিউ  সমান এম. জি, ওজন ভরের আনুপাতিক হলেও ভর এবং ওজন মোটেও অভিন্ন নয়। ওজনকে সাধারণত ডব্লিউ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ওজনের একক হল বলের একক অর্থাৎ নিউটন এন । বস্তুর ওজন স্প্রিং নিক্তির সাহায্যে পরিমাপ করা হয়ে থাকে। বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ জি এর ওপর নির্ভরশীল কেননা বস্তুর ভর এম  তার মৌলিক ধর্ম। তাহলে কোন কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণ পরিবর্তিত হলে বস্তুর ওজনেও পরিবর্তন আসবে। সুতরাং স্থান ভেদে বস্তুর ওজনের পরিবর্তন হয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য অভিকর্ষজ ত্বরণ ক্রমশ বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে বস্তুর ওজনও বৃদ্ধি পায়।





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url