পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম আজকের এই টিউটোরিয়ালে পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি এই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে। আপনি যদি না জেনে থাকেন পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি তাহলে এই টিউটোরিয়াল টি আপনার জন্য। যা থেকে আপনি জানতে পারবেন পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি চলুন জেনে নেয়া যাক পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি।

আমাদের বিশ্ব, সাধারন প্রশ্ন উত্তর, নতুন বিশ্ব, অজানা তথ্য, আজকের বিশ্ব, সাধারন জ্ঞান, জেনারেল নলেজ, কুইজ, ধাঁধা, এমসিকিউ, আইকিউ, বিসিএস প্রিলিমিনারি,

পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য কি

মানুষ কাজের মাধ্যমে তাদের যে জীবিকা সেটা নির্বাহ করে থাকে তাকে বৃত্তি বলে। এ দৃষ্টিকোণ হতে পেশাও একটি বৃত্তি। পেশা এবং বৃত্তিকে অর্থগত ভাবে ভিন্ন ভিন্ন করা হলেও মূলত তাদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য পাওয়া যায়। নিম্নে উভয়ের পার্থক্য গুলি তুলে ধরা হলো:প্রতিটি পেশার আছে নিজস্ব জ্ঞানের ভাণ্ডার। যেমন  ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। যিনি পেশাদার তাকে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে অর্জন করতে হয় বিশেষ নিপুণতা ও দক্ষতা। পেশাগত কাজগুলি প্রযুক্তিসম্পন্ন হয়।

পেশার উন্নয়নের পাশাপাশি স্বার্থ সংরক্ষণের প্রয়োজনে প্রতিটি পেশারই থাকে পেশাগত প্রতিষ্ঠান।যিনি পেশাদার কর্মী তাদের নিজ নিজ পেশায় থাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য। যেকোনো কাজের জন্য তারা থাকেন জবাবদিহিতার আওতায় । পেশা ও বৃত্তির সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো পেশা হল কাজের একটি ক্ষেত্র যা সফল ভাবে পেশাদারি কৃত হয়েছে। আর অন্যদিকে মানুষ তার জীবন ধারণের জন্য যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে তাকে বৃত্তি বলা হয়। মূলত পৃথিবীতে প্রত্যেকটি পেশারই একটি নিজস্ব জ্ঞান ভান্ডার রয়েছে। যেমন শিক্ষকতা। তবে বৃত্তির কোন সু সংঘটিত কোন ধরনের জ্ঞান ভান্ডার নেই। আর এর জন্য শিক্ষার কোন প্রয়োজন হয় না। যেমন ধরা যাক  কুলি। একজন পেশাদার ব্যক্তিকে অনেক ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হয়। অন্যদিকে  বৃত্তির জন্য ব্যবহারিক কোন ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন  পড়ে না।

পেশা

মূলত একটি সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের অধীনে কোন বিষয়ের উপর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ করে তার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের পদ্ধতিকে পেশা বলে। পেশার সংজ্ঞাকে কয়েকজন সমাজবিজ্ঞানীরা এভাবেই সংজ্ঞায়িত করেছেন পেশা হলো অন্যকে নির্দেশনা, পরিচালনা বা উপদেশ প্রদানের এমন এক ধরণের দক্ষতা, যার জন্য বিশেষ জ্ঞানার্জনের প্রয়োজন হয়  বইতে বলেছেন, পেশা হলো একটি সার্বক্ষণিক কর্ম, সেবাদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সহযোগীদের নিয়ে আলাদা পরিচিতি, বিশেষায়িত জ্ঞান, প্রশিক্ষণ, সেবামুখিতা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্যবোধ।

উপরোক্ত সংজ্ঞা হতে আমরা বলতে পারি, পেশা হলো একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, দক্ষতা, যোগ্যতা ও মর্যাদাসম্পন্ন এমন যে কোন বৃত্তি, যার জন্য প্রয়োজন হয় সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম এবং এর আওতায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভাবে জ্ঞানার্জন।

বৃত্তি

অর্থগত দিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা যায়, পেশার থেকেও বৃত্তির অর্থের পরিধি অনেক ব্যাপক। এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয়টি সীমাবদ্ধ হচ্ছে জীবিকার উপায় নিয়ে। যদি এই বিবেচনায় ‘বৃত্তি’ এবং পেশা’ সমার্থক হলেও আসলে সেটা সকল ক্ষেত্রে ঠিক নয়। পেশার সাথে থাকে দক্ষতা, পক্ষান্তরে বৃত্তির সাথে স্বভাব এবং আচরণের থাকে নিবিড় একটি সম্পর্ক। যেমন চৌর্যবৃত্তি ও ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদি  অন্যদিকে কিন্তু ডাক্তারি পেশা এবং ব্যবসা পেশা। যদিও বৃত্তি এবং পেশা দুটোর শাব্দিক অর্থই হচ্ছে জীবিকা । যাহোক পেশা কিন্তু পেশা ই। আর বৃত্তি ও একটি পেশা যা নেশা অথবা প্রবণতা পাশাপাশি স্বভাব বলাটাও অধিকতর সঙ্গত ।





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url