মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম আজকের এই টিউটোরিয়ালে মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আপনি যদি না জেনে থাকেন যে মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন তাহলে এই টিউটোরিয়াল টি আপনার জন্য যার মাধ্যমে আপনি মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মাদার তেরেসা জীবনী সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানতে পারবেন।

মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন, মাদার তেরেসা


মাদার তেরেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন

বিখ্যাত সমাজসেবী রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ভুক্ত মাদার তেরেসা ১৯১০ সালে ২৬ শে আগস্ট তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে একটি আলবেনীয় পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তবে ২৬ আগস্ট জন্ম হলেও তিনি ২৭ আগস্ট তারিখটিকে তার প্রকৃত জন্মদিন মনে করতেন কারণ ওই তারিখে তার বাপ্তিস্ম সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি ছিলেন নিকোলো ও দ্রানা বয়াজুর কনিষ্ঠ কন্যা সন্তান। তাদের আদি নিবাস ছিল আলবেনিয়া অঞ্চলে। ১২ বছর বয়সে তিনি ধর্মীয় সন্ন্যাসী জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।আঠারো বছর বয়সে তিনি গৃহ ত্যাগ করেন। একজন ধর্ম প্রচারক হিসেবে যোগ দেন সিস্টার অফ লোরেটো সংস্থায়।


১৯২৮ সালে  আয়ারল্যান্ডের ডাবলীন শহরে যান।সেখানে লরোটো কনভেন্ট সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করে ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতায় আসেন মাদার তেরেসা কলকাতার শিলাইদহ রেলস্টেশনে নিকটবর্তী মিশনারী অব চ্যারিটি নামের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি দরিদ্র অসুস্থ,  অনাথ ও মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। সেই সঙ্গে মিশনারিজ অব চ্যারিটির বিকাশ ও উন্নয়নেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। প্রথমে ভারতে ও পরে সমগ্র বিশ্বে তার এই মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।  ১৯৭৯ সালে ১৭ অক্টোবর  তিনি তার সেবাকার্যের জন্য নোবেল শান্তি  পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন।১৯৯৭ সালে ৫ সেপ্টেম্বর তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

মাদার তেরেসা কেন বিখ্যাত

যখনি মাদার তেরেসার কথা বলা হয়, তখন বিশ্বাস দয়া মমতা মানবিকতা সেবা যত্নের মত শব্দগুলি মুখ দিয়ে এক নিঃশ্বাসে প্রকাশ পায়। গৃহীন অভাবী মানুষের যথার্থ  একজন মা হয়ে উঠেন তিনি। অসংখ্য অসহায় মানুষকে তিনি সযত্নে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম ও মানসিকতা জন্য তিনি দুঃস্থদের সাহায্য করে গিয়েছেন। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে ৪৫ হাজারেরও বেশি সন্ন্যাসী সেখানে থাকেন ও ২০১২ সালের মোট ১৩৩ টি দেশে এই তার সেবাব্রতপর অব্যাহত। এইচআইভি, এইডস,কুষ্ঠ ও যক্ষা  রোগের আক্রান্তদের সেবা যত্নে ব্রতী মিশনারিজ অব চ্যারিটি সন্ন্যাসীরা। 


পৃথিবীতে যারা অসহায় মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে তাদের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের  মধ্যে অন্যতম  হলেন মাদার তেরেসা । বিশ্বের অসংখ্য গৃহহীন অভাবী মানুষের জন্য  তিনি ছিলেন একমাত্র আশার আলো। মানুষের জন্য তার জীবন উৎসর্গ, ভালোবাসা ও যত্ন করার লক্ষ্যে দেশ ও ধর্মের কোন বাঁধনে আবদ্ধ থাকেননি তিনি। মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৭ অক্টোবর মিশনারিজ অব চ্যারিট প্রতিষ্ঠা করেন অসাধারণ এক মহিলা। যার শাখা বর্তমানে  পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে আছে। সমাজে অবহেলিত বঞ্চিত অনাথ শিশুদের জন্য গড়লেন নির্মলা শিশু ভবন। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছ মাদার তেরেসা সেবাব্রত। ৬০ টি  বিদ্যালয় ৫০ টি কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র ২০টি বৃদ্ধাশ্রম ২টি দাতব্য  চিকিৎসালয়।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url